উচ্চশিক্ষায় ভর্তি: উঠে যাচ্ছে মুক্তিযোদ্ধা ও পোষ্য কোটা!


পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেলসহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধা এবং পোষ্য কোটা বাতিল করতে পারে অন্তর্বর্তী সরকার। একই সঙ্গে শারীরিক প্রতিবন্ধী কোটা বৃদ্ধি পেতে পারে। যদিও বিষয়টি এখনও চূড়ান্ত হয়নি। উপদেষ্টা পরিষদের সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

গত ৩০ জানুয়ারি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় মুক্তিযোদ্ধা, পোষ্য, নারী, প্রতিবন্ধীসহ সব ধরনের কোটার বিষয়টি পুনর্বিবেচনার সিদ্ধান্ত হয়। 

বর্তমানে উচ্চশিক্ষালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তির জন্য যে ছয় ধরনের কোটা রয়েছে সেগুলো হলো-ওয়ার্ড বা পোষ্য কোটা, উপজাতি বা ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী কোটা, হরিজন ও দলিত সম্প্রদায় কোটা, প্রতিবন্ধী কোটা, মুক্তিযোদ্ধার সন্তান বা মুক্তিযোদ্ধার নাতি-নাতনি কোটা এবং খেলোয়াড় কোটা। এতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা সবচেয়ে বেশি ৫ শতাংশ। এছাড়া পোষ্য ও খেলোয়াড় কোটা নির্দিষ্ট করা নেই। বাকিগুলোয় ১ শতাংশ কোটা রয়েছে। তবে কোটায় পাস করলেই ভর্তির সুযোগ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের প্রায় সব বিশ্ববিদ্যালয়ে কোটাপ্রথা বহাল রয়েছে। এই কোটার বিষয়ে নতুন করে সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে সরকার।

এ বিষয়ে স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব ডা: মো: সারোয়ার বারী বলেন, ‘মেডিকেলসহ অন্যান্য উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির ক্ষেত্রে সরকার সামগ্রিকভাবে একটা সিদ্ধান্ত নেবে। এজন্য মেডিকেলে কোটায় ভর্তির কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে। উপদেষ্টা পরিষদের সিদ্ধান্ত পাওয়ার পর এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো যাবে।’

‘মেডিকেল, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের কোটা রয়েছে। এই কোটার বিষয়ে সামগ্রিকভাবে একটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আমরা অনেকগুলো দিক সামনে রেখে কাজ করছি। খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে বিস্তারিত জানিয়ে দেওয়া হবে।’- ড. শেখ আব্দুর রশীদ, মন্ত্রিপরিষদ সচিব

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের দুটি সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা মেডিকেল পর্যায়ে ভর্তিযোগ্য প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার সন্তানের সংখ্যা খুবই কম। আগামী দুই/তিন বছরে ভর্তির ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান খুঁজে পাওয়া যাবে না। ফলে এই কোটা রাখার কোনো যৌক্তিকতা দেখছে না অন্তর্বর্তী সরকার। এজন্য ভর্তির ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধা কোটা পুরোপুরি বাতিল করার চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। 

 অন্যদিকে ভর্তি পরীক্ষায় পাস নম্বর তুলতে না পারলেও কোটার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীর সন্তান ভর্তির সুযোগ পাচ্ছেন। বিষয়টি নিয়ে আন্দোলনও হয়েছে। এ অবস্থায় পোষ্য কোটার বিষয়টিও পুনর্বিবেচনার চিন্তা করা হচ্ছে।

নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার এক কর্মকর্তা জানান, ‘উচ্চশিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন ধরনের কোটার সুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রে নতুন করে ভাবা দরকার। জুলাইয়ের বিপ্লবের পর চাকরির ক্ষেত্রে কোটা সংস্কার হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিতে কোটা রয়েই গেছে। ভর্তির ক্ষেত্রে যৌক্তিকভাবে কোটা বাতিল বা সংস্কার করা দরকার। বিষয়গুলো নিয়ে সরকার কাজ করছে। আশা করছি খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে এ বিষয়ে একটি যৌক্তিক সিদ্ধান্ত নেবে।’

ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘উপজাতি বা ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী কোটা, হরিজন ও দলিত সম্প্রদায় কোটা এবং প্রতিবন্ধী কোটা ছাড়া বাকিগুলো বাদ দেওয়ার পক্ষে রয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। তবে সরকারের একটি অংশ মনে করে মুক্তিযোদ্ধা কোটা একেবারে বাতিল না করে শুধু সন্তানদের জন্য ১ শতাংশ কোটা রাখা যেতে পারে। বিষয়গুলো নিয়ে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। যে সিদ্ধান্তই নেওয়া হোক না কেন সেটি দেশের কল্যাণেই নেওয়া হবে।’

‘‘বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় ভর্তির ক্ষেত্রে একটি আসনের বিপরীতে অসংখ্য মেধাবী শিক্ষার্থী প্রতিযোগিতা করেন। এসএসসি ও এইচএসসিতে ভালো ফল করেও অনেকেই এ ভর্তিযুদ্ধে হেরে যান। এতে মেধাবীদের বঞ্চিত করে কোটায় কিছু শিক্ষার্থী দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢুকছে।’’ -শিক্ষার্থীদের অভিযোগ

এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশীদ বলেন, ‘মেডিকেল, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের কোটা রয়েছে। এই কোটার বিষয়ে সামগ্রিকভাবে একটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আমরা অনেকগুলো দিক সামনে রেখে কাজ করছি। খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে বিস্তারিত জানিয়ে দেওয়া হবে।’

মুক্তিযোদ্ধা এবং পোষ্য কোটা বাতিল করা হবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘বাতিল হবে না কি সেটি এই মুহূর্তে বলা সম্ভব নয়। তবে দেশের সামগ্রিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় ভর্তির ক্ষেত্রে একটি আসনের বিপরীতে অসংখ্য মেধাবী শিক্ষার্থী প্রতিযোগিতা করেন। এসএসসি ও এইচএসসিতে ভালো ফল করেও অনেকেই এ ভর্তিযুদ্ধে হেরে যান। এতে মেধাবীদের বঞ্চিত করে কোটায় কিছু শিক্ষার্থী দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢুকছে। এখন সময় এসেছে কোটা নামে বৈষম্য দূর করা।

Post a Comment

Thanks for your Comment.

Previous Post Next Post