জুন থেকে চালু হচ্ছে ‘শহীদ আবু সাঈদ ও মুগ্ধ ট্রাস্ট’ শিক্ষাবৃত্তি



জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতাধীন দেশব্যাপী সব কলেজে শহীদ আবু সাঈদ ও মুগ্ধ ট্রাস্ট স্কলারশিপ চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ইতোমধ্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটে বিষয়টি নিয়ে একটি সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী অর্থবছর থেকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে দেশজুড়ে প্রায় ২ হাজার ৫০০ কলেজের শিক্ষার্থীরা পাবেন এই শিক্ষাবৃত্তি।

সোমবার (০৩ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ এস এম আমানুল্লাহ্ দ্যা ডেইল ক্যাম্পাসকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। জানা গেছে পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীরা এই শিক্ষাবৃত্তি পাবেন। তবে কলেজের সংখ্যা, টাকার পরিমাণ এবং কোন কোন যোগ্যতার ভিত্তিতে এই বৃত্তি দেয়া হবে সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।  

উপাচার্য অধ্যাপক এ এস এম আমানুল্লাহ্ বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সবসময় শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তা করে থাকে। সেই প্রক্রিয়াকে এবার নতুন করে বৃদ্ধি করা হবে। এবার আমরা আবু সাইদ ও মীর মুগ্ধের নামে স্কলারশিপ চালুর একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটে এই সিদ্ধান্ত অনুমোদনও হয়ে গেছে। তবে আর্থিক বিষয়াদি নির্ধারণের জন্য যেহেতু ফাইন্যান্স কমিটির অনুমোদন প্রয়োজন হয় তাই কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। খুব শীঘ্রই বিষয়টি অফিসিয়ালি জানানো হবে।


স্কলারশিপের ধরন সম্পর্কে উপাচার্য বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে থাকা প্রতিটি কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে যারা বেস্ট রেজাল্ট করবেন তারা এই পুরস্কারের যোগ্যতা অর্জন করবেন। তবে প্রতিটি কলেজ থেকে কতজন এই শিক্ষাবৃত্তি পাবেন সেটার বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত নেয়নি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

উপাচার্য আরো বলেন, আমরা বিষয়টি নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারিনি। আড়াই হাজার কলেজ থেকে একজন করে শিক্ষাবৃত্তি পেলে আড়াই হাজার শিক্ষার্থী হবেন। দুজন করে হলে সেটা পাঁচ হাজার শিক্ষার্থী হবে। তবে আমরা বিষয়টি নিয়ে সরকারের সাথেও ইতোমধ্যে কথা বলেছি। এছাড়া জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশনও আমাদের এই উদ্যোগে পাশে থাকবে। শিক্ষাবৃত্তি দেয়ার ক্ষেত্রে আমাদের প্রধান উদ্দেশ্য থাকবে শিক্ষার মানোন্নয়ন নিশ্চিত করা। 

আগামী অর্থবছর থেকে এই শিক্ষাবৃত্তি চালুর পরিকল্পনা করছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। উপাচার্য বলেন, চলতি অর্থবছর যেহেতু ইতোমধ্যে অর্ধেক পার হয়েছে, পাশাপাশি এখনো আমাদের প্রস্তুতি পুরোপুরি সম্পন্ন হয়নি। কাজেই আমাদের পরিকল্পনা থাকবে আগামী জুন থেকে শিক্ষার্থীদের এই বৃত্তির আওতায় নিয়ে আসা। তবে এই শিক্ষাবৃত্তির অর্থ কলেজগুলোকে বহন করতে হবে না। এই অর্থ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় বহন করবে। শিক্ষার্থীরা কত টাকা করে পাবেন সেটা এখনো নির্ধারণ হয়নি। চূড়ান্ত সভায় এটি নিশ্চিত হওয়া যাবে।

এর আগে গত বছরের নভেম্বরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতাধীন দেশব্যাপী সব কলেজে শহীদ আবু সাঈদ ও মুগ্ধ ট্রাস্ট স্কলারশিপ দেয়ার ঘোষণা দেন উপাচার্য অধ্যাপক এ এস এম আমানুল্লাহ্।

এদিকে শহীদ আবু সাইদ ও মীর মুগ্ধের নামে স্মৃতিফলক নির্মানের সিদ্ধন্তও নিয়েছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি কলেজে এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের কথা জানিয়েছেন উপাচার্য। দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে তিনি বলেন, শহীদ আবু সাইদ ও মীর মুগ্ধের নামে আমরা স্মৃতিফলক নির্মানের সিদ্ধন্ত নিয়েছি। ইতোমধ্যে ঢাকার লালমাটিয়া সরকারি মহিলা কলেজ, শেখ বোরহানুদ্দীন পোস্ট গ্রাজুয়েট কলেজসহ বেশকিছু কলেজে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হয়েছে। স্বৈরাচার হাসিনাকে তাড়ানোর জন্য প্রতিটি জেলার যেসব স্থানে শিক্ষার্থীরা প্রাণ দিয়েছেন সেখানে ওই শিক্ষার্থীর নামে কলেজের বিভিন্ন ভবন কিংবা স্থাপনার নাম পরিবর্তন করে তাদের স্মরণ রাখা হবে।

উপাচার্য আরো বলেন, আমরা মৌখিকভাবে বললেও খুব শীঘ্রই বিষয়টি নিয়ে সব কলেজকে চিঠি পাঠিয়ে এ সিদ্ধন্ত বাস্তবায়ন করার অনুরোধ করবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এলাকা অনুযায়ী সেখানে যে ছাত্র প্রাণ দিয়েছেন সেই এলাকায় ওই কলেজের বিভিন্ন স্থাপনার নাম পরিবর্তন করে তাদের স্মরণে রাখা হবে। আমরা চাই, সারাদেশের সব কলেজে শহীদদের নামে এভাবে ভবন ও স্থাপনার নামকরণ হোক। যাতে জুলাই বিপ্লবের শহীদরা চিরদিন আমাদের মাঝে স্মরণীয় হয়ে থাকেন।

এই অধ্যাপক আরো বলেন, রাজধানীর লালমাটিয়া সরকারি মহিলা কলেজে একটি ভবনের নাম ছিল নানক ভবন, যেটাকে পরিবর্তন করে এখন শহীদ আবু সাইদ ভবন করা হয়েছে। এছাড়া মিরপুরে একটি কলেজেও এমন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হয়েছে। সারা দেশের প্রতিটি কলেজে এমন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করার জন্য চিঠি পাঠানো হবে।

Post a Comment

Thanks for your Comment.

Previous Post Next Post